সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
লেবানন প্রবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু!  কেশবপুরে বিদ্যালয়গামী মেয়ে শিশুর মা’দের মাঝে নগদ অর্থ ও হাইজিং উপকরণ বিতরণ  চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য ধ্বংস  সিংড়া বোয়ালিয়া আওয়ামীলীগের আয়োজনে বিশেষ বর্ধিত সভা ২০২০ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৯ম ত্রৈ-বার্ষিক স্কাউট কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত। মাদারগঞ্জে পুনরায় যুবলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত  জুড়ীতে জাতীয় পার্টি নেতা মরহুম তারা মিয়া স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত শ্রীরবরদী ইট ভাটার পাহারাদারদের লাশ উদ্ধার  গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাটির নিচে আটকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু //

নড়াইলের গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : থেকে প্রেরিত সংবাদ / ৩৫ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

নড়াইলের গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি :: খেজুরের রস’ এই প্রবাদে নড়াইল জেলার প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে পাটালি গুড় তৈরির উৎসব। এক সময় দিগন্ত জুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ চোখে পড়তো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। শীত মৌসুমের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। শীতের সময়ই পাওয়া যায় সুস্বাদু পানীয় খেজুর গাছের রস। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে এই সুস্বাদু খেজুর গাছের রস পানের মজাই আলাদা। ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য শীতের আগমনের শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন গাছিরা। এর ফলে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা নড়াইলের গ্রাম গঞ্জের খেজুর গাছের কদর বেড়েছে। এখনও তেমন একটা শীতের দেখা না মিললেও এরই মধ্যে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। গাছ সংকটের কারণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা অনেক গাছির। কয়েক বছর আগেও এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, ক্ষেতের আইলের পাশে ও রাস্তার দুই ধারে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। গাছটি সাধারণত উপযোগী আবহাওয়ায় জন্মে। প্রতি বছরে ৪ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। এ রস অত্যন্ত সুস্বাদু ও মানবদেহের উপকারিতার কারণে মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয়। শীতকালে শহর থেকে মানুষ ছুটে আসতো গ্রামবাংলার খেজুর রস খেতে। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেতো তখন। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করতেন তারা। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্য সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হতে পারে। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। খেজুর গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।খো রশেদ আলম বলেন, শীত মৌসুমের শুরুতেই আমি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের কাজ করে থাকি। কাঁচা রস বিক্রির পাশাপাশি এই রস থেকে পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। নড়াইলের খলশি গ্রামের আবু বক্কার বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, হয়তো বা এক সময় আমাদের এলাকা থেকে খেজুর গাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সবার উচিৎ তালগাছের মতো বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো এবং তা যত্ন সহকারে বড় করা। আমাদের হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হলে এই কাজে সবার এগিয়ে আসতে হবে। বনগ্রামের মোকসেদ আলী বলেন, শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস, গুড়, পাটালির চাহিদা থাকে। তবে গাছ হ্রাস পাওয়ায় দাম থাকে একটু চড়া। তবু এর স্বাদ নিতে ভুল করেন না সকল শ্রেণির মানুষ। প্রথম ধাপে কাঁচা রস প্রতি মাটির ভাড় (ঠেলে) ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। আর পাটালি গুড় বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়। জেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুরের গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। খেজুর গাছ ফসলের কোনও ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনও খরচ লাগে না। এ বছর সঠিক সময়ে শীতের আগমন হওয়ায় জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম খেজুর গাছ ঝুড়া শুরু হয়েছে। এখান থেকে চাষিরা রস আহরণ করবে। খেজুর গাছ রয়েছে। সেখান থেকে কৃষকরা খেজুরের রস সংগ্রহ করবে এবং তা থেকে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি পণ্য তৈরি করবে। যা বাজারে বিক্রি করে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ